নিরাপদ সবজি

বাংলাদেশ পৃথিবীর  একটি জনবহুল দেশ যার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৬% এবং দেশের প্রায় ৪৫% লোক কৃষি কাজের সাথে নিয়োজিত। বালাইদ্বারা বাংলাদেশে সবজি ফসলের প্রায় ২৫% ক্ষতি হয়ে থাকে তা সত্তেও বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বর্তমানে বিশেব ৩য় স্থানে রয়েছে এবং সবজির আবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধির দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার লাভ করেছে।

কৃষি ক্ষেত্রে সবজি চাষে বালাই ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র বালাইনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা যেমন ব্যয়বহুল তেমনি পরিবেশের জন্য দূষনীয় ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং বিষযুক্ত সবজি গ্রহণের ফলে ধীরে ধীরে পুরুষ ও মহিলাদের বন্ধ্যাত  বাড়ছে। এ কারণে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের সক্ষম করে তোলা এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করার লক্ষ্য ‘‘নিরাপদ সবজি উৎপাদন’’ করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় প্রাথমিক অবস্থায় বরাট, শহীদওহাবপুর ও বসন্তপুর ইউনিয়ন এই তিনটি ইউনিয়নকে সামনে রেখে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের অগ্রগতি উন্নিত সাধিত হয়েছে এবং অত্র এলাকায় 392 কৃষক প্রায় ৫,০ টন নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হয়েছে। যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা হয়েছে-

Ø   কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

Ø        পরিবেশের কোনরূপ ক্ষতি না করে রাজবাড়ীতে সবজির স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সবজি রপ্তানিতে সহায়তা করা।

Ø        টেকসই ও পরিবেশ সম্মত উপায়ে কৃষকের সবজি উৎপাদন এবং আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।

Ø        মানসম্মত সবজি উৎপাদনের জন্য জৈব কৃষি কার্যক্রম ত্বারান্বিত করা।

Ø        নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।

‘‘নিরাপদ সবজি উৎপাদন’’  উদ্ভাবনীটির কার্যক্রম জোরদার করায় কৃষকের সচেতনা বৃদ্ধির         পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ হ্রাস পেয়েছে। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে মাটিতে প্রয়োগ করায় রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীলতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে ও মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। পোকা দমনে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের ব্যবহার এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস অথবা অনেক  ক্ষেত্রে কীটনাশকের ব্যবহার না করার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পেয়েছে ফলে কৃষকের আয় বিঘা প্রতি প্রায় দশ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের টেকসই উন্নয়ন ও জীবন যাত্রার মান উন্নিত হয়েছে।


মতামত