চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর  সদর উপজেলার ৯নংবালিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গুলিসা একটি গ্রাম গুলিসা গ্রাম নিয়ে একটি ব্লক। ইহা উপজেলা   সদর থেকে ১৪কিঃমিঃ দক্ষিনে অবস্থিত। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অর্ন্তগত। এনএটিপি প্রকল্প শুরুর আগে উক্ত এলাকায় কৃষকের কোন সংগঠন ছিল না। কৃষকগণ নিজ ইচ্ছা মত তাহাদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলাতো।তাহারা জমি ও মাটির প্রকার ভেদ অনুসারে কি ফসল অবাদ করতে হয় তাহাও তাহারা জানে না। এনএটিপি প্রকল্প শুরুর আগে উক্ত এলাকায় উঁচু জমিতে লালশাক,মুলা, ডাটাশাক,মিষ্টি কুমড়া,৫/৬হেঃ আবাদ হতো। উক্ত শাক সব্জির গড়ে ৩০ মেঃ টন ফলন পেতো। তাহারা উন্নত মানের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সার ব্যবহারের সময় মাত্রা নিধারণ প্রয়োগ প্রদ্ধতি এবং কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা এবং প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা না আকার কারনে তাহারা আশানুরুপ ফলন পেত না। ২০০৮/০৯ সালে এনএটিপি প্রকল্প শুরু হওয়ার পর উক্ত ব্লকে ধান চাষীদের নিয়ে ২টি CIG এবং মহিলাদের নিয়ে একটি শাক সবজি CIG গঠন করা হয়। প্রতিটি ধান CIG তে ২০ জন করে ধান চাষী এবং ১টিতে ২০ জন মহিলা নিয়ে শাকসবজি CIG গঠন করা হয়। NATP প্রকল্পের সহায়তায় উক্ত সংগঠনের চাষীদেরকে তাহাদের ফসল আবাদে সমস্যা নিরুপন, সমাধান এর আলোকে তাহারা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তৈরী করে। উক্ত ঈওএ চাষীদের ঘঅঞচ প্রকল্পের আওতায় তাহাদেরকে বসতবাড়ীতে শাকসবজি আবাদ, মাটির স্বস্থ্য উন্নয়ন, ধানের ফলন পার্থক্য কমানো, অডউ ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাপনা, মিশ্র ফল বাগান স্থাপন এবং সিআইজি, নেতৃত্বের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তাছাড়া তাহাদের মাইক্রোপ্লানের উপর ভিত্তি করে উপরোক্ত প্রযুক্তির উপর প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। প্রদর্শনীর মাঠ দিবস করে উক্ত প্রযুক্তি প্রভাব অন্যান্য ঈওএ নন ঈওএ চাষীদেরকে উপস্থান করা হয়। উক্ত CIGদল থেকে নেতৃত্ব স্থানীয় ও আগ্রহী কৃষকদের মাধ্য থেকে ১৫ জন চাষীকে এ পর্যন্ত কুমিল্লা ধান গবেষনা এবং কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউটে উদ্ভূদ্ধ করণ ভ্রমনে নেওয়া হয়। উক্ত প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী স্থাপন এবং উদ্ভদ্ধ করণ ভ্রমন করে এলাকার কৃষকগন। আধুনিক প্রযুক্তি বিস্তার, উন্নত মানের / হাইব্রিড জাতের ফসল  আবাদ, বিভিন্ন ফসলের সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার জৈবসার ব্যবহারের গুরুত্ব এবং জৈব সার প্রস্তুতি এবং সার প্রয়োগ প্রদ্ধতি, সবজিতে রাসায়নিক কীটনাষক পরিহার করে জৈবিক কীটনাষক, সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করে বিষ মুক্ত সবজির উৎপাদন করে । ঈওএ দলের মাধ্যমে শাক সবজি উৎপাদনের আধুনিক কলা কৌশল প্রয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ায় তাহারা পূর্বের সবজি আবাদ পরিহার করে বর্তমানে ফুল কপি ২.৫০ হেঃ বাধা কপি ২.৫ হেঃ টমেটু ৩ হেঃ চিচিংগা ২.০০ হেঃ করলা ২.০০হেঃ হাইব্রিড দুন্দুল২.০হেঃ গাজর ১.০হেঃ আবদ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে  এলো পাথাড়ী ভাবে রাসায়নিক কীটনাষক ব্যবহার করে প্রতি হেঃ ১২০০০ টাকা খরচ করেছে। বর্তমানে জৈবিক কীটনাষক এবং ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে খরচ হচ্ছে ৬০০০/-টাকা। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন হওয়ায় বাজারে বিষমুক্ত সবজির চাহিদা বেড়েছে। বাজার মুল্যও বেশী পাওয়া যায়। এতে করে প্রতি হেঃ প্রতিটি শাক সবজিতেই ২ লক্ষ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা অধিক লাভবান হচ্ছে। NATP প্রকল্পের পূর্বে এলাকার কৃষক গণ ধান চাষাবাদ, সঠিক বয়সের চারা রোপনের গুরুত্ব, মাটির স্বস্থ্য রক্ষায় জৈবসার ব্যবহার এবং সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার, অডউ ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পোকা মাকড় নিয়ন্ত্রন সম্পর্কে ধারনা ছিল না। তাতে করে তাদের উৎপাদন খরচ বেশী হতো কিন্তু আশানুরূপ ফলন পেত না। প্রকল্প চালু হওয়ার পর। ধানের ফলন পার্থক্য কমানো অডউ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনার উপর প্রদর্শনী স্থাপন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাহারা একদিকে তাহাদের উৎপাদন খরচ হেঃ প্রতি ২-৩ হাজার টাকা কম হয়েছে। অন্য দিকে ধানের গড় উৎপাদন হেঃ প্রতি ১.২ মেঃ টন বৃদ্ধি পেয়েছে।  

উত্তর সমূহ

  1. মোঃ ওবায়েদুল হক রেজা,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার

    good