উদ্ভাবন

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী এ ফলটি এই অঞ্চলে খুবই সম্ভাবনাময়। ফলে কৃষকদের কাছে বারি মাল্টা-১ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গাজীপুর হর্টিকালচার রিচার্স সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মদন গোপাল সাহা জানান, রোগবালাই এবং ঝরে পড়া কম হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর বানিজ্যিক চাহিদাও বাড়ছে। মাল্টার উন্নত জাত বারি মাল্টা-১, ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে কৃষি বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছিলেন। ২০০৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ফলটি সম্প্রসারণ পর্যায়ের জন্যে মুক্তায়ন করে।
খাগড়াছড়ির কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে মাল্টার অন্তত ২০০ টি বানিজ্যিক বাগান গড়ে উঠেছে। ফলে বাজার ছেয়ে গেছে বারি মাল্টায়। বিদেশি মাল্টার পরিবর্তে সবুজাভ মাল্টার প্রতিই সাধারন মানুষের আগ্রহ বেশি। প্রতি কেজি মাল্টা স্থানীয় বাজারে ৮০/১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হর্টিকালচার রিচার্স সেন্টারের সাইট্রাস উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. আজমত উল্লাহ বারি মাল্টার উৎপাদন ও মিষ্টতায় নিজেও উৎফুল্ল হয়েছেন। তিনি বলেন, এই ফলের চাষাবাদ করে পাহাড়ের কৃষকরা কেবল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে না; তাদের পুষ্টি নিরাপত্তায়ও অবদান রাখবে। সম্ভাবনাময় ফলটির বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন কলাকৌশল কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে কৃষক আর্থ-সামাজিকভাবে লাভবান হবে এবং অন্যদিকে মাল্টার আমদানি জিরোতে নামিয়ে এনে বৈদেশিক মূদ্রাও সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
ফল গবেষনা কর্মকর্তারা জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই মাল্টার ফলন আসে। সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে একজন কৃষক চাইলেই লাখপতি হয়ে যেতে পারেন। তারা এক্ষেত্রে কৃষি গবেষনার বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদদেরকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা কৃষকদেরকে সুখবর দিয়ে বলেছেন, খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে মানসম্মত মাল্টার চারা কলম পাওয়া যায়।